আজ- বুধবার, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আত্মঘাতী অসচেতনতা পরিপূর্ণ লকডাউন জরুরি


শপিং মলগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, যানবাহনে গাদাগাদি অবস্থা, ফেরিঘাট-রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের স্রোত—এ অবস্থায় দেশে করোনা মহামারি কতটা ভয়ংকর রূপ নেবে, তা অনুমান করতেও কষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে ঈদের পর আক্রান্তের হার এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞ কমিটি পরিপূর্ণ লকডাউনেরই সুপারিশ করেছিল। কিন্তু মানবিক বা অর্থনৈতিক কারণে সরকার শর্ত সাপেক্ষে লকডাউন কিছুটা শিথিল করেছিল। কিন্তু মার্কেট, শপিং মল, যানবাহন কোথাও সেসব শর্ত মানা হচ্ছে না। এ অবস্থায় করোনা শুধু কয়েকটি বড় শহরে নয়, সারা দেশেই ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনা এতটাই ভয়ংকর রূপ নিয়েছে যে সারা দুনিয়া সাহায্যের হাত বাড়িয়েও আক্রান্ত বা মৃতের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে পারছে না। দেশটিতে দৈনিক চার লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং দৈনিক মারা যাচ্ছে চার হাজারের বেশি। হাসপাতালগুলোতে জায়গা নেই। হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষারত অবস্থায়ই অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। অক্সিজেন সংকট চরমে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা এ জন্য করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরনের সঙ্গে অত্যধিক সংক্রমণক্ষম ভারতীয় ধরনকে দায়ী করছেন। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনসহ আরো অনেক ধরন রয়েছে। নিয়মিত মিউটেশনের মাধ্যমে স্থানীয় ধরনও তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় ভারত থেকে ফিরে আসা কিছু মানুষের দেহে ভারতীয় ধরনও শনাক্ত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে নিকট ভবিষ্যতে মহামারি কী রূপ নেবে তাই নিয়ে সংশ্লিষ্টরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এ অবস্থায় ঈদ সামনে রেখে মানুষের বেপরোয়া চলাচল, অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার ফল কী হবে তা নিয়ে তাঁরা আরো বেশি শঙ্কিত।

এই বিপর্যয় থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যেত, যদি বেশির ভাগ মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা যেত। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশে মহামারি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে এসেছে ব্যাপক হারে টিকা প্রদানের কারণে। কিন্তু সেটিও আমরা করতে পারছি না। আমাদের প্রথম ডোজ টিকা প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদানও বন্ধ হওয়ার পথে। সারা দুনিয়ায়ই টিকার সংকট রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত থেকে টিকা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সম্প্রতি চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই টিকা আসতেও সময় লাগবে। এসব কারণে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটাই ছিল এখন আমাদের সামনে একমাত্র উপায়। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও যে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অনেক বেশি শিথিলতা দেখিয়েছিল ভারত। এখন সারা দুনিয়ার সহযোগিতা নিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। লকডাউন, এমনকি কারফিউ পর্যন্ত কাজে আসছে না। সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে আমাদের আগে থেকে সচেতন হওয়া জরুরি। লকডাউন কঠোর করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সামান্য শিথিলতাও অনেক বড় ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

 


এই রকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

বিশেষ খবর