আজ- বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘আত্মহত্যা’

  • 12
    Shares

 

।। কাজী শাহেদ।।

একটি মানুষ ‘আত্মহত্যা’ করেছে। আর আপনারা সেই ‘অপমৃত্যুর’ পেছনে যিনি বা যারা দায়ী তাদের বিচার চাইছেন। এটাই তো মূল ইস্যু, না-কি? একজন সচেতন সুনাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে আপনার এই চাওয়া থাকতেই পারে। রাষ্ট্রও আপনার সেই অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। আমার ধারনা, ধাপে ধাপে সেটি নিয়ে কাজও হচ্ছে। অন্তত, পুলিশ যেভাবে প্রতিদিন তার ‘কোড অব কনডাক্ট’ বজায় রেখে সাংবাদিকদের কিছু কিছু নতুন তথ্য দিচ্ছে তাতে তো মনে হয় কাজ এগোচ্ছে।
আর আপনারা যারা শুরু থেকেই মূল ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে কেবল বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম কিংবা নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানসহ ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে পড়ে আছেন তাদের আসল উদ্দেশ্যটা কি একটু বলবেন?
বাংলাদেশের কোন্ মিডিয়া কবে নিজ মালিকের বিরুদ্ধে নিউজ করেছে? একটা উদাহরণ দেন। দেশের বাইরে বিদেশে উন্নত কোন দেশেরও উদাহরণ দিতে পারেন। আমার জানার অনেক আগ্রহ। আচ্ছা মিডিয়ার কথা বাদ দিলাম। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়জন এ পযর্ন্ত চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজ প্রতিষ্ঠানের কোন দুর্নীতির তথ্য দিতে সরাসরি টেলিভিশনের ক্যমেরার সামনে এসেছেন, বলতে পারেন? আপনার পরিবারের কেউ অপরাধ করলে আপনি কি নিজে উদ্যোগী হয়ে পাশের বাড়ি বিচার দিতে যান? প্রতিবেশী কিংবা সমাজের কাছে গিয়ে নিজ পরিবারের ওই সদস্যের শাস্তি দাবি করেন? এগুলো সিনেমা নাটকে হয়। বাস্তবে অতো সাধু আপনি আমি কেউ না। সবচেয়ে বড় কথা অভিযুক্তেরও বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। সবপক্ষের অধিকার নিশ্চিত করে রাষ্ট্রই সিদ্ধান্ত নেবে কে কতখানি অপরাধী। রাষ্ট্রকে এই সুযোগ ও সময়টুকু দিতে আপনাদের এতো অনীহা, এতো ধৈযর্চ্যুতি কেন? কেন এই অতিবিপ্লব?
আচ্ছা ধরেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক বিপ্লবী হয়ে চাকরি ছেড়ে দিলেন। তাতে কি বাংলাদেশ প্রতিদিন বা নিউজ টোয়েন্টিফোর বন্ধ হয়ে যাবে? যাবে না। আপনিও রাতারাতি বিচার পেয়ে যাবেন না। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। বরং তাৎক্ষনিকভাবে উনাদের শূন্যস্থান পূরণে পদ-প্রত্যাশীদের হিড়িক পড়বে। আর সেই দৌড়ে সামনের সারিতে কারা থাকবে জানেন? তারাই, যারা আজ মূল ইস্যু (বিচার দাবি) রেখে নঈম নিজাম বা পীর হাবিব নিয়েই সবচেয়ে বেশি ঘেউ ঘেউ করছেন। এরাই সুযোগ পেলে সবার আগে মালিক পক্ষকে এসে বুঝাবে, নঈম নিজামরা ব্যর্থ হয়েছে…এবার আমাদেরকে দায়িত্ব দেন। ঠিক এইটার জন্যই তাদের আজ এতো গাত্রদাহ।
বলতে পারেন, আন্দাজে কথা বলছি। মোটেও না। এখানে সর্বোচ্চ লবিং করেও যোগ্যতা না থাকার কারণে যারা চাকরি পাননি তারাই ইস্যু রেখে এই মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের কর্ণধরদের সমালোচনায় বেশি ব্যস্ত। কখনো তারা বাংলাদেশ প্রতিদিন সংবাদপত্রকে টয়লেট পেপারের সাথে তুলনা করছেন, কখনো আবার নিউজ টোয়েন্টিফোরে সেহেরির জন্য কত টাকা দেয়া হচ্ছে সেই হাঁড়ির খবর তদন্ত করছেন। স্বার্থ একটাই! পরশ্রীকাতরতা এবং নিজের ব্যর্থতা-হতাশা থেকে এক ধরনের প্রতিশোধ-পরায়ণতা।
এইসব ধান্দাবাজ ভন্ডদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে আমাদের অভিভাবকরা তো আর তরুণ সাংবাদিক প্রজন্মকে ধ্বংস করতে পারেন না! তাই আপনাদের সব গালিগালাজ হজম করেও টিভি-পত্রিকা চালাচ্ছেন। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ সেই পত্রিকা পড়ছে, টেলিভিশনও দেখছে। তারা আপনাদের মতোই রক্তমাংসের মানুষ, তাদের বসবাস এই পৃথিবী নামক গ্রহে (হয়ত ফেসবুক জগতের বাইরে)। অন্তত এতোকাল ধরে যেভাবে একজন নঈম নিজাম বাংলাদেশে সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ তৈরিতে কাজ করে গেছেন- তা আর কবে কে করতে পারবে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। প্রচার সংখ্যায় সর্বোচ্চ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া একটি সংবাদপত্রকে টানা ১২ বছর সাফল্যের সাথে ধরে রাখা, পাশাপাশি চব্বিশ ঘন্টার একটি নিউজ চ্যানেল পরিচালনা এবং একইসাথে একটি রেডিও চালানো- অতো সহজ না। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার ইতিহাসে এমন জীবন্ত কিংবদন্তী একজনই। আপনাদের অতি জনপ্রিয় বিশেষন- কেবল ‘পা-চেটে’ এমন হওয়া যায় না। এরজন্য মেধা লাগে, শ্রম লাগে, নানা প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করা লাগে।
আপনারা যে আদম সন্তানেরা ঢালাউভাবে সাংবাদিকদের ’জারজ সাংবাদিক’ বলছেন, সাংবাদিকতাকে ’বাস্টার্ড জার্নালিজম’ বলছেন তারা কিন্তু এখনো তথ্যের জন্য টিভি, সংবাদপত্র কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টাল-ই ঘাটাঘাটি করছেন। এই আপনারাই দু’দিন আগেও নঈম নিজাম, পীর হাবিবুর রহমান এর কলাম পড়ে বাহবা দিয়েছেন।
তাই বলছি, উনাদের সংগ্রামটা উনাদের মতো করে করতে দিন। আপনারা চাইলে সমালোচনাও করতে পারেন, তবে তা যৌক্তিকভাবে রুচিশীল ভাষায়। কোথায়-কেন- কীভাবে-কোন বিষয়গুলো হচ্ছে নিশ্চিৎ না হয়েই ঢালাউভাবে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর গণমাধ্যম এক জিনিস না। গণমাধ্যমে চ্যালেঞ্জটা দ্বিমুখি কিংবা চতুর্মুখীও না; চ্যালেঞ্জটা এখানে বহুমুখী। আপনারা বরং তাদের অনুপ্রেরণা ও সাহস দেন। না পারলে চুপ থাকেন। চুপ থাকতে না পারলে কেবল নিজেরটুকুই বলেন। নিজের নাগরিক দায়িত্বটুকু পালন করেন। ফেসবুকে দুই চারটা লাইক পেতে সাংবাদিকদের সমালোচনার নামে নিজের ভেতরের পশুত্বকে জাগ্রত হতে দিয়েন না। সাংবাদিকদের বাবা-মা তুলে গালি দিবেন না, প্লিজ।

লেখক:  বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশনের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক।


  • 12
    Shares

এই রকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

বিশেষ খবর