আজ- বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আমিই সেরা

  • 4
    Shares

।। মো. কামরুল ইসলাম ।।

একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের কর্মপদ্ধতিই প্রত্যেকটি বিভাগকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে এবং সব বিভাগের সম্মিলিত কর্মযজ্ঞই প্রতিষ্ঠানকে সফল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শিখরে পৌঁছাতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ এয়ারলাইন্স ব্যবসা পরিচালনা করতে বিভিন্ন বিভাগের প্রত্যক্ষ কর্মপদ্ধতির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

পৃথিবীর যেকোনো এয়ারলাইন্সের প্রাত্যহিক কাজ কর্ম করার জন্য বেশ কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট থাকে। ডিপার্টমেন্টের সবাই ভাবে তাকে ছাড়া এয়ারলাইন্স বিজনেস স্বাভাবিকভাবে চলবে না। অর্থাৎ তার ডিপার্টমেন্টই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখযোগ্য ডিপার্টমেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট অপারেশন, কেবিন সার্ভিস, ক্যাটারিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট, স্টোর, কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স, গ্রাউন্ড সার্ভিস কিংবা এয়ারপোর্ট সার্ভিস, ক্লিনিং, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, কার্গো, রিজার্ভেশন, অ্যাকাউন্টস, রেভিনিউ, ট্রান্সপোর্ট, সিকিউরিটি, টেইলারিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সফটওয়ার, এইচআর অ্যান্ড এডমিন, ইভেন্ট অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং এবং পাবলিক রিলেশন্স ডিপার্টমেন্ট।

প্রথমেই কেবিন সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের কথাই উল্লেখ করা যাক—যারা প্রতিদিন বিমান যাত্রীদেরকে সরাসরি সেবা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। তাদের মনোভাবটাই থাকে এয়ারলাইন্সের যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে তাদের সেবাই প্রধান।

ফ্লাইট অপারেশন ডিপার্টমেন্ট। এয়ারলাইন্সের পাইলট একটি গুরুত্বপূর্ণ পজিশন। পাইলট ছাড়া একটি এয়ারলাইন্স কোনোদিন কল্পনাও করতে পারে না। ফ্লাইট ছাড়ার আগমুহূর্তেও একজন ক্যাপ্টেন অসুস্থ অনুভব করলে ফ্লাইট বাতিল কিংবা দেরি ঘোষণা করতে পারে। অপারেশন ডিপার্টমেন্টের সব এভিয়েটরদের অনেক একতাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়।

একজন পাইলট হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে অপারেশন ডিপার্টমেন্টের সবার অনুভূতি অন্যদের থেকে আলাদা। পাইলটদের সঠিক দায়িত্ববোধ একটি এয়ারলাইন্সকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক সাশ্রয়ী করে তোলে।

ক্যাটারিং ডিপার্টমেন্টের সেবার উপর একটি এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তি অনেকটা নির্ভর করে। অনেক সুবিধাদির মধ্যে খাবার সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা না দিয়ে বাজেট এয়ারলাইন্সের কনসেপ্ট ডেভেলপ করেছে। নির্দিষ্ট ফ্লাইটে উন্নতমানের এবং সময়োপযোগী খাবার সরবরাহ করতে না পারলে এয়ারলাইন্সকে অনেক নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হতে হয়। ফলে ক্যাটারিং ডিপার্টমেন্ট মনে করে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

একজন পাইলট হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে অপারেশন ডিপার্টমেন্টের সবার অনুভূতি অন্যদের থেকে আলাদা। পাইলটদের সঠিক দায়িত্ববোধ একটি এয়ারলাইন্সকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক সাশ্রয়ী করে তোলে।

এয়ারলাইন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইঞ্জিনিয়ারদের ধারণা তারা যদি সঠিক সময়ে এয়ারক্রাফটকে উড্ডয়ন উপযোগী করে না দেয় তবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। একটি এয়ারলাইন্সকে সেফটি এয়ারলাইন্স বলা যায় যদি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এয়ারক্রাফট রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ হয়। তাই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট দাবি করে তাদের ছাড়া যেকোনো এয়ারলাইন্সই অচল।

বিশাল দায়িত্বের অধিকারী প্রকিউরমেন্ট ডিপার্টমেন্ট। যদি সময়মতো এয়ারক্রাফটের ইকুইপমেন্টস কিংবা পার্টস সরবরাহ করে দিতে না পারে তবে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট যত দক্ষই হোক না কেন ফ্লাইট উড্ডয়ন উপযোগী হবে না। তারাও অনুভব করে তাদের অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আবার স্টোর ডিপার্টমেন্টে লোকবল কম হলেও তাদের প্রয়োজনীয়তা অন্য যেকোনো ডিপার্টমেন্টের থেকে কম নয়। আবার কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স ডিপার্টমেন্টের কথা না বললেই নয়। এয়ারক্রাফটের টেকনিক্যাল সাপোর্ট যথোপযুক্ত কিনা তা সার্টিফাইড করে থাকে কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স ডিপার্টমেন্ট। তাদের উপস্থিতি লক্ষণীয় পর্যায়ে দেখা যায়।

গ্রাউন্ড সার্ভিস কিংবা এয়ারপোর্ট সার্ভিস বা কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট যেকোনো এয়ারলাইন্সের জন্যই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। একজন যাত্রী এয়ারপোর্টে পৌঁছানো মাত্রই তার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা যেমন লাগেজ চেক-ইন, বোর্ডিং পাস ইস্যু, ইমিগ্রেশন, ট্রান্সপোর্ট, সিকিউরিটি চেক-ইনসহ যাবতীয় কার্যাবলী সম্পন্ন করার প্রধান দায়িত্বই থাকে এয়ারপোর্ট সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের।

অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয় গ্রাউন্ড সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বিশেষ করে আবহাওয়াজনিত কিংবা টেকনিক্যাল কারণে ফ্লাইট বাতিল বা দেরি হলে সব ধরনের আন-ওয়ান্টেড পরিস্থিতি সবকিছুই ম্যানেজ করতে হয় এয়ারপোর্ট সার্ভিস ডিপার্টমেন্টকে। তাই তাদের অনুভূতি গ্রাউন্ড সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট।

ক্লিনিং একটি অত্যাবশ্যকীয় ডিপার্টমেন্ট। প্রতিটি ফ্লাইট শেষ করে আসার পর খুব দ্রুততার সাথে এয়ারক্রাফটের ভেতরে পরিষ্কার-পরিছন্ন করে পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনা করার জন্য প্রস্তুত করে ক্লিনিং ডিপার্টমেন্ট। প্রতিদিন ফ্লাইট শেষ করে রাতের বেলা কিংবা যখন নির্দিষ্ট এয়ারক্রাফটের ফ্লাইট শিডিউল থাকে না তখন এয়ারক্রাফটের বাহিরের দিকে পরিষ্কার করা হয় যা যাত্রী সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কোনোভাবেই ক্লিনিং ডিপার্টমেন্টকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই।

সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের অভিব্যক্তি, তারা হচ্ছে এয়ারলাইন্সের হার্ট। তারা যদি ব্যবসা এনে দিতে না পারে তবে এয়ারলাইন্সের চলার পথ থমকে যাবে। যত ভালো প্রোডাক্টই হোক না কেন প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনামাফিক মার্কেটিং প্ল্যান। তাই এয়ারলাইন্সের যত ব্যবসা সবকিছু নির্ভর করে সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের উপর।

আজকাল প্যাসেঞ্জার এয়ারলাইন্সে, কার্গো ডিপার্টমেন্ট মোট আয়ের এক বিশাল অংশ দখল করে আছে। যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক যাত্রী নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট ফ্লাইটে না থাকে তখন আয়ের পরিমাণে যেন তারতম্য না ঘটে সেজন্য কার্গো ডিপার্টমেন্টের আন্তরিকতায় অতি অল্প সময়ে কার্গো পরিবহন করার ব্যবস্থা করে থাকে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় প্রচুর পরিমাণ গার্মেন্টস পণ্য, কাঁচা তরকারি বিদেশে রফতানি করে থাকে। এখানে কার্গো ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে পছন্দ করে।

একটি এয়ারলাইন্স কত আধুনিক হতে পারে, কত উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন হতে পারে, রিজার্ভেশন সিস্টেম কত বেশি যাত্রীদের জন্য আন্তরিক হতে পারে তা রিজার্ভেশন ডিপার্টমেন্টের উপর নির্ভর করে। বাস্তবিকভাবে রিজার্ভেশন ডিপার্টমেন্টকে অনেক বেশি গতিশীল হতে হয়। চব্বিশ ঘণ্টাই সার্ভিস দিতে হয়। এজন্য রিজার্ভেশন ডিপার্টমেন্টের সবাই নিজেদেরকে একটু আলাদা ভাবতেই পছন্দ করে।

একাউন্টস ডিপার্টমেন্ট সব জায়গায় একটু সুপিরিয়র ভাবতেই পছন্দ করে। এয়ারলাইন্সে একাউন্টস ছাড়া সব ডিপার্টমেন্টই খরচের খাত অনেক বেশি। সবাইকে অর্থের জন্য একাউন্টস ডিপার্টমেন্টের উপর নির্ভর করতে হয়। তাদের ধারণা যে যত প্ল্যানই করুক না কেন অর্থ ছাড়া কোনো প্ল্যানই সফল হবে না।

রেভিনিউ একাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট। সাধারণত এয়ারলাইন্সেই এই ডিপার্টমেন্টের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। একটি এয়ারলাইন্সের রেভিনিউ ডিপার্টমেন্ট যত বেশি শক্তিশালী, সেই এয়ারলাইন্সের আর্থিক হিসাব-নিকাশ তত বেশি গোছানো। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট, বিভিন্ন করপোরেট অফিস, নিজস্ব সেলস অফিস এবং এয়ারপোর্ট সার্ভিস যদি হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত কোনো ভুল করে থাকে তবে রেভিনিউ ডিপার্টমেন্ট সেই ভুল বের করতে পারে।

রেভিনিউ ডিপার্টমেন্ট সব ধরনের অস্বচ্ছ হিসাব-নিকাশ করে থাকে নিজস্ব সফটওয়ারের মাধ্যমে। তাই রেভিনিউ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদেরকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। আবার রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে প্রাইসিং, দুর্বল ব্যবস্থাপনাসহ অনেক সংবেদনশীল বিষয় যুক্ত থাকে।

ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট। একটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট কত বেশি অন-টাইম থাকে তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট। ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট অন্যদের মতোই নিজেদের অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকে।

আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টের তেমন কোনো ভূমিকা নেই কিন্তু কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সবার আগে পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। যা এয়ারলাইন্সকে সুরক্ষিত রাখে। বিমানবন্দরে যাত্রী থাকাকালীন যেমন এয়ারক্রাফট, যাত্রীদের লাগেজ থেকে শুরু করে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধান করতেও সচেষ্ট থাকে সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট।

ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং সফটওয়্যার ডিপার্টমেন্ট আধুনিক করপোরেট যুগে এক বিশাল ভূমিকা রেখে চলেছে। আধুনিক বিশ্বের সাথে সমভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আইটি ডিপার্টমেন্ট যেকোনো করপোরেট অফিসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এয়ারলাইন্সকে আরও বেশি গতিশীল করতে আইটি ও সফটওয়্যার ডিপার্টমেন্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখছে সর্বত্রই।

টেইলারিং ডিপার্টমেন্টও একটি এয়ারলাইন্সের ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যে সব ডিপার্টমেন্টের এক্সিকিউটিভ অথবা পাইলট অথবা ইঞ্জিনিয়ার বা কেবিন ক্রু অফিসিয়াল ইউনিফর্ম পরিধান করে তাদের সব ধরনের ড্রেস নিজস্ব টেইলারিং ডিপার্টমেন্ট তৈরি করে থাকে। এছাড়া লোডার, পিয়ন, ড্রাইভার কিংবা মেকানিক সকলের একটি নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম নির্দিষ্ট সময়ে একই ডিজাইনের ড্রেস তৈরি করে থাকে, যা এয়ারলাইন্সের স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখে। এখানে ইউনিফর্মের কোয়ালিটি যেমন বজায় রাখতে হয় তেমনি নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতে হয়।

এইচআর অ্যান্ড এডমিন। ব্যাক অফিস হিসেবে এয়ারলাইন্সের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। এইচ আর ডিপার্টমেন্ট যদি ভালো কর্মী নিয়োগ প্রদান করতে না পারে তবে এয়ারলাইন্স কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। এয়ারলাইন্সে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করার জন্য এডমিন ডিপার্টমেন্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বছর শেষে স্টাফদের ইনক্রিমেন্ট কিংবা প্রতি মাসে রেগুলার বেতন প্রদানে এইচআর ডিপার্টমেন্টের ভূমিকা রয়েছে। সরকারি অফিস আদালতের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এয়ারলাইন্সের গতি বৃদ্ধি করার দায়িত্ব এডমিন ডিপার্টমেন্টের। সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা প্রণয়নে এইচআর অ্যান্ড এডমিন ডিপার্টমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এডমিন অ্যান্ড এইচআর ডিপার্টমেন্ট ছাড়া এয়ারলাইন্স কল্পনা করা যায় না।

ইভেন্ট অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং যেকোনো ধরনের প্রোডাক্ট ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় ব্র্যান্ডিং টিমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একটি ব্র্যান্ডিং টিম যত বেশি শক্তিশালী এর প্রচার ও প্রকাশনায় তত বেশি এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করে সারাক্ষণ।

এয়ারলাইন্স একটি সেবামূলক ব্যবসা হওয়ার কারণে সারা বছর বিভিন্ন ইভেন্টের মাধ্যমে নিজেদের অন্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা প্রকাশ করার সুযোগ থাকে। ফলে ব্র্যান্ডিং ও ইভেন্ট ডিপার্টমেন্ট নিজেদের সুপিরিয়র ভাবার সুযোগ পায়।

অনেক ডিপার্টমেন্টের মতো পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টও একটি সেবামূলক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে একটি কোম্পানি যখন স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে তখন আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টের তেমন কোনো ভূমিকা নেই কিন্তু কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সবার আগে পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সারা বছর নিজের প্রতিষ্ঠানকে সবক্ষেত্রে প্রচার করার প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্ট। ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল রিলেশনের বন্ধনে মূল ভূমিকা পালন করে পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্ট।

এখানে সব ডিপার্টমেন্টের ভূমিকা নিয়েই আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে এয়ারলাইন্সকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবিকভাবেই যেকোনো ব্যবসায় প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের ভূমিকাই অপরিসীম। প্রতিটি বিভাগের প্রতিযোগিতা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল করে তোলে। সবার উপলব্ধি ‘আমিই সেরা’।

একটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ‘আমিই সেরা’ অনুভূতি অনেকাংশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যদি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সব বিভাগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তবেই কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ কাজ করে না। কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ বৃদ্ধি পায় বহুগুণ। সবাই একটি টিম হিসেবে কাজ করবে, যার সফল পরিণতি ভোগ করবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

মো. কামরুল ইসলাম ।। মহাব্যবস্থাপক- জনসংযোগ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

ডেইলি/ এইচ


  • 4
    Shares

এই রকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

বিশেষ খবর