আজ- মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গণনিয়োগে রাবির অস্থিরতা কাটছে না


।।  প্রতিনিধি, রাবি।।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের গণনিয়োগে সৃষ্ট অস্থিরতা এখনও কাটেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করলেও পদায়নের দাবিতে আন্দোলন করছেন নিয়োগপ্রাপ্তরা।

আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সভা ও সিন্ডিকেট স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ও তার পরিবারকে হুমকি দেয়ার অভিযোগও উঠেছে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার (২৮ জুন) নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নগরীর মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। মতিহার থানায় জিডি নথিভুক্ত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। এনিয়ে একটি বিবৃতি প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর অবগতির জন্য পাঠিয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ফারুকী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে এবং ক্যাম্পাসে কর্মরত ও বসবাসরতদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

অচলাবস্থা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে পদায়নের জন্য আন্দোলন করছেন নিয়োগপ্রাপ্তরা। এখানে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি আদেশ অমান্য করতে পারি না। আমাকে হত্যা করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া পদায়ন করা সম্ভব নয়।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় মাস ধরে নিয়মিত উপাচার্য নেই উল্লেখ করে শিক্ষকরা বলছেন, উপাচার্য নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতায় পাঁচ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। যার মধ্যে রয়েছে- জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের মূল সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে না পারা, এমফিল-পিএইচডির গবেষণা অভিসন্দর্ভ পরীক্ষণের জন্য প্রেরণে জটিলতা, গবেষণা তহবিল বরাদ্দে জটিলতা, এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুনভাবে উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করতে না পারা। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদেশি স্কলারশিপসংক্রান্ত কাজে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে মেয়াদের শেষ কার্যদিবসে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে ১৩৮ জনকে নিয়োগ দেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান। ওই দিনই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যোগদান স্থগিত করে। দ্রুত সময়ে তদন্ত ও প্রতিবেদন জমা দিলেও কোনো নির্দেশনা দেয়নি মন্ত্রণালয়।


এই রকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

বিশেষ খবর