আজ- বুধবার, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই


 

।। ডেস্ক রিপোর্ট।।

‘সেই ছোট থেকে পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি আমরা। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, ত্রাণ চাই না, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেন। আর কিছু চাই না।’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ চর আন্ডা এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব শরীফ বললেন কথাগুলো। শুধু সুমন নয়, একই দাবি উপকূলের অন্যান্য বাসিন্দাদেরও।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে উচ্চ জোয়ারের পানিতে রাঙ্গাবালীর রাস্তাঘাট, গাছপালা, বেড়িবাঁধ, মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার (৩০ মে) সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান শুরু করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পটুয়াখালীতে ২৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। ৪ হাজার ৫৯৩টি বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। পরিপূর্ণ হিসাব জানতে আগামী তিন কর্মদিবস সময় প্রয়োজন। পটুয়াখালী জেলায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে রাঙ্গাবালী উপজেলা নামটি সবার শীর্ষে উঠে আসছে।

বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় বহু এলাকা

রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের রায়হান মাহমুদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উচ্চ জোয়ারের পানিতে আমাদের রাস্তা ভেঙে গেছে। এখন ঘর থেকে বের হতে হলে হাঁটু সমান কাদা। রাস্তায় চলাচল করতে কষ্ট হয়।

রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী গ্রামের মো. হাসান মাহমুদ বিশ্বাস বলেন, ‘বেড়িবাঁধ দেয়ার একটা ব্যবস্থা অইলে আমরা বর্ষাকালে শান্তিতে থাকতে পারতাম।’

উপকূলে হু হু করে ঢুকছে পানি

রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মু. সাইদুজ্জামান মামুন খান জানান, সরকারের কাছে দাবি, রাঙ্গাবালী উপজেলাজুড়ে বেড়িবাঁধ দেয়া হোক। এলাকাবাসীর চাহিদানুযায়ী তারা যেন দ্রুত এ ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেন।

রাঙ্গাবালীর হালিম চরের যুবক শাকিল বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত না হানলেও জোয়ারের পানিতে আমাদের ফসলি জমি, মাছের ঘের, গরুর খামারের ক্ষতি হয়েছে।

জোয়ারের পানিতে ৭ হাজার ৮৫টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, উচ্চ জোয়ারের পানিতে ৭ হাজার ৮৫টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাছ, পোনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নিয়ে ৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে রাঙ্গাবালী উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই বেশি।

চর মোন্তাজ ইউনিয়নের সুজন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে বাতাস আর জোয়ারের পানিতে আমাদের এলাকার নদীপাড়ের বহু মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই ভেঙে গেছে।

পটুয়াখালী বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, মাত্র জোয়ারের পানি নামল। এরপর মাঠকর্মীরা কাজ করে আমাদের রিপোর্ট দেবে। এতে আরও ৭ দিন সময় লাগবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অবগত রয়েছে।

সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া, টেকসই বেড়িবাঁধ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পটুয়াখালী জেলায় ৬৫ হেক্টর জমির মরিচ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৭.৫ হেক্টর জমির তিল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪.২৫ হেক্টর জমির তিল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৯০ হেক্টর জমির শাকসবজি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৮১০ হেক্টর জমির শাকসবজি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৫০ হেক্টর জমির পান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলায় ৫৯ লাখ ১ হাজার ৫৭৫ টাকা ক্ষতি হয়েছে। যার একটা বড় অংশ বিস্তার করেছে রাঙ্গাবালী উপজেলাজুড়ে।

পটুয়াখালী এলজিইডির সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী জুগল কৃষ্ণ মন্ডল কৌশিক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৭১.৯৯ কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী মো. হালিম সালেহীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ডেইলি/ এস


এই রকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

বিশেষ খবর