আজ- বুধবার, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মুক্তমঞ্চের জায়গা দখল করে আ’লীগ নেতার গোয়ালঘর!

  • 35
    Shares

।।  নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র পদ্মাপাড়ের লালন শাহ মুক্তমঞ্চ। বিনোদনপিয়াসী বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগমে মুখরিত এ স্থানটি এখন গোয়ালঘর আর টিনের খুপরি তুলে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। পাড়ের এলাকা দখল করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা গোয়ালঘর নির্মাণ করেছেন। এর ফলে প্রশান্তির আশায় মানুষ নদীর পাড়ে এলেও পড়ছে নানা বিড়ম্বনায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, লালন শাহ মুক্তমঞ্চের পশ্চিম পার্শেই টিনশেড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গরুর গোয়ালঘর। এছাড়াও মুক্তমঞ্চের পূর্বপাশে একতলা ভবনের নিচে ঝড় বৃষ্টি থেকে বিনোদন পিয়াসীদের নিরাপদ রাখতে তৈরি করা ভবনকেও গোয়ালঘরে পরিনত করেছেন রাজাশাহী সিটি কর্পোরেশনের লালন শাহ মুক্তমঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাইট গার্ড ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর। গোয়ালঘর নির্মানের কারণে একদিকে লালন শাহ মুক্তমঞ্চের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এবং অন্যদিকে দর্শনার্থীদের বসার স্থানগুলো থাকছে নোংরা আবর্জনায় ভরা।

শুধু নগরবাসীই নয়, রাজশাহীর বাইরে থেকে আসা লোকজনকেও টানে পদ্মার সৌন্দর্য। সবাই মনকে একটু প্রফুল্ল রাখতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে যায় বড়কুঠি সংলগ্ন পদ্মাপাড়ের লালন শাহ মুক্তমঞ্চে। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থী ও বিনোদনপ্রেমী মানুষের ভিড় থাকে সেখানে। কিন্তু এসব স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে খুপরি ঘর ও গোয়ালঘরের কারণে লালন শাহ মুক্তমঞ্চে সৌন্দর্যটাই এখন ম্লান। এখনো লালন শাহ মুক্তমঞ্চে সবকিছু সাজানো-গোছানো থাকলেও গরুর খামার ও গুটিকয় টিনশেড ঘরের কারণে সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখাসূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন পদ্মাপাড়কে সাজিয়ে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেতে ২০১৩ সালে মহানগরীর পদ্মাপাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয় লালন শাহ পার্ক। রাসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এ নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এর উদ্বোধন করেন। এই পার্কে একসঙ্গে ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ অবস্থান করতে পারবে। পার্কের অভ্যন্তরকে গ্রিন জোন, ল্যান্ডস্কেপ ও পর্যটন ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন ধরনের আইটেমে পরিপূর্ণ করা হয়। সেখানে রাখা হয় একটি মুক্তমঞ্চ। যেখানে রয়েছে মুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুবিধা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজাশাহী সিটি কর্পোরেশনের লালন শাহ মুক্তমঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাইট গার্ড ও রাসিক ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর বলেন, ‘লালন শাহ মুক্তমঞ্চে আমি কোন গোয়াল যর নির্মান করিনি। সেটি করেছেন আমার ছোট ভাই শাওন। এ বিষয়ে তাকে জিঙ্গাসা করেন।’

লালন শাহ মুক্তমঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাইট গার্ড হয়ে কি করে এমন গোয়ালঘর নির্মান হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার একার পক্ষে লালন শাহ মুক্তমঞ্চের পুরো এলাকা দেখাশোনা করা সম্ভব না। এখানে আরো লোকবল প্রয়োজন। তাহলে হয়তো আমার ভাই না অন্যকেউই এমন কোন গোয়ালঘর নির্মাণ করতে পারবে না।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল লালন শাহ মুক্তমঞ্চের পাশে গোয়ালঘর নির্মান বিষয়টি তদন্ত করে সৌন্দর্য রক্ষায় অচিরেই দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। সূত্র: উপচার


  • 35
    Shares

এই রকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

বিশেষ খবর